অনাথ বন্ধু পাঁজা (১৯১১–১৯৩৩) ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং-এর এক বীর বিপ্লবী। তিনি ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট বার্নার্ড বার্জকে হত্যা করতে গিয়ে শহীদ হন। আজও তাঁর শহীদ দিবস গর্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
জন্ম: ২৯ অক্টোবর ১৯১১, জলাবিন্দু গ্রাম, সবং, পশ্চিম মেদিনীপুর
শৈশবে পিতৃহারা হয়ে মা ও বড় ভাইয়ের কাছে বড় হয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ভেতরে দেশপ্রেম জেগে ওঠে, যা তাঁকে স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে টেনে আনে।অনাথ বন্ধু পাঁজা যুক্ত হন বিখ্যাত বিপ্লবী সংগঠন Bengal Volunteers-এর সঙ্গে। এখানে তিনি অন্য বিপ্লবীদের সঙ্গে মিলে গোপনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করতেন।
কলকাতায় গিয়ে তিনি বন্দুক চালনার প্রশিক্ষণও নেন এবং পরে মেদিনীপুরে ফিরে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনে সক্রিয় হন।
মেদিনীপুরের দুই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (James Peddy ও Robert Douglas) হত্যার পর ব্রিটিশ সরকার সেখানে Bernard E.J. Burge-কে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট করে পাঠায়। তিনি ছিলেন কঠোর ও নিষ্ঠুর শাসক।
১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর, Bradley-Birt Football Tournament চলাকালীন সময়ে, অনাথ বন্ধু পাঁজা ও মৃগেন্দ্র দত্ত ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট বার্জকে গুলি করে হত্যা করেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই মুহূর্তেই Burge-এর দেহরক্ষীর গুলিতে শহীদ হন অনাথ বন্ধু পাঁজা। বয়স তখন মাত্র ২১ বছর।
২ সেপ্টেম্বর দিনটি মেদিনীপুর তথা সমগ্র বাংলার জন্য বিশেষ দিন। এদিন আমরা স্মরণ করি এক সাহসী তরুণ বিপ্লবীর আত্মত্যাগ, যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
অনাথ বন্ধু পাঁজা ছিলেন মেদিনীপুর তথা ভারতের গর্ব। তাঁর আত্মত্যাগ আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতা সহজে আসেনি, এসেছে অসংখ্য বিপ্লবীর রক্তের বিনিময়ে।আজকের দিনে আমাদের দায়িত্ব তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
শহীদ অনাথ বন্ধু পাঁজা অমর রহে।
